জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে পার্থর তীব্র মন্তব্য সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে বিপ্লবী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে পার্থর তীব্র মন্তব্য

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে পার্থর তীব্র মন্তব্য

সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে বিপ্লবী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

১ এপ্রিল, ২০২৬

ক্রিকেটীয় ভাষায় ত্যাগের ইতিহাস

জাতীয় সংসদে জুলাই গণ‑অভ্যুত্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ (নতুন সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলোর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভোলা‑১ আসনের আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

এক বক্তব্যে তিনি “ক্রিকেটীয় ভাষায়” বলেন, কিছু নেতা হয়তো “छয় বলে ১২ রান” করেছেন, কিন্তু জুলাইয়ের আগের ৩০০ রান “আমরা সবাই মিলে” করেছি। তিনি বিভিন্ন দলের যৌথ ত্যাগ ও অবদানকে কম করে দেখানোর প্রচেষ্টাকে নিন্দা করে বলেন, জনগণ যেন বিভ্রান্ত না হন যে “জুলাইয়ে কোনো দলের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নেই” এমন ইমেজিংয়ে ঘটনাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

গণভোট ও জাতীয় সনদ নিয়ে প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও ২০২৫ সালের গণভোট নিয়ে পার্থ বলেন, গণভোটের ব্যালটে ভোটারকে চারটি বিষয়ে একসঙ্গে হ্যাঁ বা না চিহ্ন দিতে বাধ্য করা হলে এক বা কয়েকটি বিষয়ের প্রতি মতভেদ থাকলে ভোটার কী করবেন— হ্যাঁ নাকি না লিখবেন? এই প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সংবিধানের বাকি বিষয়গুলো কেন গণভোটে আনা হয়নি এবং কেন শুধু নির্বাচিত ধারাগুলো নিয়ে ভোটারের সিদ্ধান্ত চাওয়া হচ্ছে।

সংবিধান ও জুলাই স্পিরিট

সংসদ সদস্য পার্থ বলেন, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের “স্পিরিট”ও ধরে রাখতে হবে; তবে কোনো দলের বক্তব্যে যেন জুলাইকে কার্যত ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা না হয়।

তিনি সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা ও বিপ্লবী বা ট্রানজিশনাল সরকার না গঠে একটি সাধারণ সরকার রেখে পুরনো সংবিধান থেকেই সংবিধান বাতিলের প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজনীতি বিপ্লবী প্রক্রিয়ায় না নিয়ে গিয়ে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো বজায় রাখতে হবে।

রাজনৈতিক আচরণ ও জামায়াতের নীতি

বিভিন্ন দলের আচরণের তীব্র সমালোচনা করে পার্থ বলেন, যুক্তিপূর্ণ মন্তব্য করলেই কাউকে “জুলাইয়ের বিপক্ষে শক্তি” বানিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চলছে, যেটা তাঁকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়।

তিনি জামায়াত ইসলামির নীতি নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ভারত‑বিরোধী ও ইসলামের নামে রাজনীতি করে এখন ভোটের জন্য শরিয়া আইন না চাওয়া প্রভৃতি বক্তব্য দেওয়া “দ্বিমুখী নীতি”র উদাহরণ। তিনি সকল দলকে ইতিবাচক, স্থির নীতির রাজনীতি আনার আহ্বান জানান এবং জুলাই সনদের আধারে গণতান্ত্রিক সংস্কার বিতর্ককে দেশের সামগ্রিক স্বার্থে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

Post a Comment

0 Comments